আঞ্চলিক আরবি পরিচিতি [৩৩৫ পৃষ্ঠা - A4 সাইজ] [ফোর কালার]
![আঞ্চলিক আরবি পরিচিতি [৩৩৫ পৃষ্ঠা - A4 সাইজ] [ফোর কালার] - Digital Download Featured Media](https://cdn.klasio.com/1002908/28209/conversions/আঞ্চলিক-আরবি-পরিচিতি-featured.png)
ডিজিটাল ডাউনলোড সম্পর্কে
লিংক থেকে নমুনা দেখে নিন- https://drive.google.com/file/d/1Eub5toEebx8YfAhOuv6goqpWo-AGwP__/view?usp=sharing
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ। আরবি ভাষা আমাদের দীনের ভাষা, কুরআন-সুন্নাহর ভাষা। মাদরাসায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে আরবি শিখি তা হলো ফুসহা (الْفُصْحَى)—বিশুদ্ধ, প্রমিত আরবি। কিন্তু বহু শিক্ষার্থী প্রথমবার রিয়াদ, জেদ্দা, কায়রো বা আম্মানে গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন: দোকানদার, ট্যাক্সিচালক, সহপাঠী বা অফিসের সহকর্মী যে ভাষায় কথা বলছেন তা বইয়ের আরবির মতো নয়। কেউ বলছেন إِزَّيَّكْ, কেউ كِيفَكْ, কেউ وِشْ لَوْنَكْ—অথচ সবাই জানতে চাইছেন একই কথা: “আপনি কেমন আছেন?”
এই দূরত্ব ঘোচানোর জন্যই এ বই। এখানে প্রতিটি বাক্য একসঙ্গে চার রূপে দেওয়া হয়েছে—ফুসহা, সৌদি, মিসরি ও শামি। সঙ্গে আছে বাংলা অর্থ ও বাংলা হরফে উচ্চারণ। ফলে আপনি ফুসহার পরিচিত ভিত থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে দেখতে পাবেন, প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ সেই কথাটি কীভাবে বলেন, কোথায় শব্দ বদলায়, কোথায় উচ্চারণ বদলায়, আর কোথায় ব্যাকরণের ছোট একটি উপসর্গ পুরো অর্থ পাল্টে দেয়।
◆ কেন এই চারটি রূপ?
· ফুসহা — সব আরবের অভিন্ন লিখিত ভাষা; কুরআন, হাদিস, সংবাদ, বই ও খুতবার ভাষা। এটিই আমাদের মূল ভিত্তি।
· সৌদি — হারামাইন শরিফাইনের দেশ; লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী, হজ-উমরা যাত্রী ও সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন প্রয়োজন।
· মিসরি — আরব বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বোঝা উপভাষা; আল-আজহারের দেশ; চলচ্চিত্র, নাটক ও গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রায় সব আরব এটি বোঝেন।
· শামি — সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের ভাষা; ফুসহার খুব কাছাকাছি, শ্রুতিমধুর এবং আরবি শেখার কোর্স, পডকাস্ট ও ধারাবাহিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত।
বইটি চার অংশে সাজানো। প্রথম অংশে ফুসহা ও আঞ্চলিক আরবির সম্পর্ক, উপভাষার ইতিহাস, বিস্তার ও মানচিত্র। দ্বিতীয় অংশে তুলনামূলক ধ্বনিতত্ত্ব ও ব্যাকরণ: কোন বর্ণ কোথায় কীভাবে উচ্চারিত হয়, সর্বনাম, ইশারাবাচক শব্দ, প্রশ্নবোধক শব্দ, ক্রিয়ার কাল, না-বাচক বাক্য, সংখ্যা ও সময়। তৃতীয় অংশ বইয়ের প্রাণ: দৈনন্দিন জীবনের ষোলোটি বিষয়ে—সালাম, পরিচয়, পরিবার, ঘর, খাবার, বাজার, যাতায়াত, বিমানবন্দর ও হোটেল, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা, সময় ও আবহাওয়া, ফোন ও ইন্টারনেট, অনুভূতি, সামাজিক-ধর্মীয় অভিব্যক্তি এবং হজ-উমরা ও জরুরি অবস্থা—চার শতাধিক বাক্য চার রূপে, প্রতিটি অধ্যায়ে চার রূপের সংলাপ, শব্দভান্ডার ও অনুশীলনী। চতুর্থ অংশে সৌদি, মিসরি ও শামি উপভাষার বিস্তারিত পরিচিতি এবং উপসাগরীয়, ইরাকি, ইয়েমেনি, সুদানি ও মাগরেবি উপভাষার সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
শেষে পরিশিষ্টে রয়েছে অনুশীলনীর উত্তর, বইয়ের সব শব্দের বর্ণানুক্রমিক তুলনামূলক কোষ, জরুরি বাক্যাংশের তালিকা, “একই শব্দ ভিন্ন অর্থ” জাতীয় বিভ্রান্তিকর শব্দের তালিকা, আরও শেখার সহায়ক উৎস এবং আন নাফে একাডেমির প্রকাশনার তালিকা।
একটি জরুরি কথা
আঞ্চলিক আরবি শেখা মানে ফুসহাকে ছোট করা নয়। ফুসহাই কুরআনের ভাষা, জ্ঞানের ভাষা এবং সব আরবের মধ্যে সেতুবন্ধ। উপভাষা শিখুন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে, তাদের কথা বুঝতে ও দাওয়াহর কাজে কাছে যেতে; কিন্তু লেখা, বক্তৃতা, খুতবা ও শিক্ষাদানে ফুসহাকেই আঁকড়ে ধরুন। এ বইয়ে প্রতিটি বাক্যের শুরুতে ফুসহা রাখা হয়েছে সে কারণেই।
এ বই তৈরিতে আরব বিশ্বের নানা অঞ্চলের ভাষাভাষীদের প্রচলিত বাকরীতি, উপভাষা-বিষয়ক পাঠ্যবই ও অভিধান এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে। মনে রাখবেন, উপভাষা জীবন্ত জিনিস—একই দেশে শহর থেকে শহরে, এমনকি পরিবার থেকে পরিবারে উচ্চারণ ও শব্দ বদলায়। আমরা প্রতিটি অঞ্চলের সবচেয়ে প্রচলিত নগর-রূপটি বেছে নিয়েছি এবং প্রয়োজনমতো বিকল্প রূপও টীকায় উল্লেখ করেছি। কোনো ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
আল্লাহ তাআলা এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং আরবি ভাষার শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী করুন। আমিন।
